সোনা, রুপো না শেয়ার বাজার? ২০২৬-এ ১০ লক্ষ টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ?

২০২৬-এ ১০ লক্ষ টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ?


২০২৫ সাল ইক্যুইটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল একেবারেই শিক্ষণীয় একটি বছর। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও রুপোর মতো অলাভজনক সম্পদকে গুরুত্ব দিতেন না, তাঁদের জন্য এই বছর বাজার এক কঠিন বার্তা দিয়েছে।

যেখানে নিফটি মাত্র ১০.৫% রিটার্ন দিতে পেরেছে এবং বহু ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন, সেখানে সোনা দিয়েছে প্রায় ৭৫% রিটার্ন এবং রুপো চমকে দিয়ে বেড়েছে প্রায় ১৮৩%। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বহু মানুষ।


🔍 বিনিয়োগকারীদের বড় প্রশ্ন

২০২৬ সালে কি মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া উচিত, না কি ভারতীয় শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়াবে—এই আশায় আবার ইক্যুইটির দিকে ঝুঁকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন তহবিল ব্যবস্থাপক তাঁদের মতামত দিচ্ছেন।

📊 এস নরেন কী বলছেন?

দালাল স্ট্রিটের পরিচিত মুখ এবং আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল AMC-এর ফান্ড ম্যানেজার এস নরেন মনে করছেন, সোনা ও রুপোর দামে অতিরিক্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তাঁর মতে, ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারের তুলনায় ভারতীয় ইক্যুইটি সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছে, ফলে ২০২৬ সালে ভারতীয় বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।

নরেন বলেন, “এই মুহূর্তে বিনিয়োগের সেরা পথ হল অ্যাসেট অ্যালোকেশন। গত বছরের তুলনায় এখন ইক্যুইটিতে কিছুটা বেশি ঝুঁকি নেওয়া যুক্তিযুক্ত।”


🏦 নীলেশ শাহের অ্যাসেট অ্যালোকেশন কৌশল

কোটা মহিন্দ্রা AMC-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর নীলেশ শাহ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পদ বণ্টনের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • ইক্যুইটি: প্রায় ৫৫%
  • মূল্যবান ধাতু (সোনা ও রুপো): প্রায় ২০%
  • ফিক্সড ইনকাম: প্রায় ৩০%

তিনি মনে করেন, এই অনুপাত ১–২ শতাংশ এদিক-ওদিক হতে পারে, তবে একজন সাধারণ ঝুঁকি গ্রহণকারীর জন্য এটি একটি যুক্তিসঙ্গত কৌশল।

শেয়ার বাজার নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। মিডক্যাপ, লার্জক্যাপ এবং স্মলক্যাপ—তিন ধরনের শেয়ারই ভালো পারফর্ম করতে পারে বলে তাঁর আশা। সোনা ও রুপোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ক্রয়ের উপর।


📈 অ্যামবিট গ্লোবালের কৌশল

অ্যামবিট গ্লোবাল প্রাইভেট ক্লায়েন্ট-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট সুনীল শর্মা মাঝারি ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা দিয়েছেন।

  • সোনা: ১২.৫%
  • রুপো: ৪–৫%
  • ইক্যুইটি মোট: ৭২%
    • লার্জ ক্যাপ: ৬৭.৫%
    • মিড ক্যাপ: ২২.৫%
    • স্মল ক্যাপ: ১০%
  • ক্রেডিট ও InvITs: ১১%

এছাড়াও, ইক্যুইটির মধ্যেই REITs-এ ৬–৮% বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


🚀 তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আক্রমণাত্মক কৌশল

SBI Securities-এর সানি আগরওয়াল ৩০–৪০ বছর বয়সী তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • ইক্যুইটি: ৭০%
  • সোনা: ১০%
  • রুপো: ১০%
  • বন্ড: ১০%

আগরওয়াল বলেন, “এই বয়সে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে এবং বিনিয়োগের সময়সীমাও দীর্ঘ হয়, যা ইক্যুইটিতে বেশি বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়।”


📌 উপসংহার

২০২৬ সালে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একক কোনও সম্পদের উপর নির্ভর না করে সঠিক অ্যাসেট অ্যালোকেশন-ই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি। ইক্যুইটির দিকে ঝোঁক বাড়লেও, সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতু পোর্টফোলিওতে ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।